ঢাকা , সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬ , ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাদক সম্রাট ও ঘৃনীত নারী দালাল মো: গিয়াস উদ্দিন। ও সাব রেজিস্ট্রার মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন এর দুর্নীতি এবং সম্পদের পাহাড়।

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ০৬-০৪-২০২৬ ০৯:৫৫:০০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৬-০৪-২০২৬ ০৯:৫৫:০০ অপরাহ্ন
মাদক সম্রাট ও ঘৃনীত নারী দালাল মো: গিয়াস উদ্দিন। ও সাব রেজিস্ট্রার মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন এর দুর্নীতি এবং সম্পদের পাহাড়।
দেশের শীর্ষস্থানীয় বনেদি এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত রাজধানীর গুলশান এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ আব্দুল্লাহ আল-মামুন ও শিক্ষানবীশ গিয়াসের বেশুমার ঘুষ দূর্নীতি আর রমরমা দলিল বাণিজ্যে কোনঠাসা সাধারণ জনগণ। গুলশান সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের  মামুন- গিয়াস এর এমন একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

সাবরেজিস্টার মোঃ আব্দুল্লাহ আল-মামুনের নেতৃত্বে,  উপর মহলের আশির্বাদে গুলশান সাব-রেজিস্ট্রার এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে শক্তিশালি দুর্নীতির সিন্ডিকেট। নামজারি, খতিয়ান, ডিসিআর, খাজনার রসিদ কিংবা ভূমি অফিসের রেকর্ডপত্র সবই যেন তাদের ‘হাতে জিম্মি’। তবে টাকা ছাড়া মেলেনা সেবা, নড়েনা ফাইল।


তদন্ত সূত্র বলছে, এখানে কেউ জমি নিবন্ধন করতে এলে সরকার নির্ধারিত ফির উপরে নির্ধারিত টাকার ছক ধরিয়ে দেওয়া হয়। এর পর নানা বাহানায় আদায় করা হয় লক্ষ লক্ষ  অবৈধ টাকা। বছরের পর বছর চলছে এভাবেই তাদের লাগামহীন দুর্নীতি । সরজমিনে ঘুরে  সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের দুর্নীতির একাধিক তথ্য পাওয়া গেছে ।

গুলশান সাব- রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০টি দলিল রেজিস্ট্রি হয়ে থাকে। তবে দেশের অন্যান্য সাব- রেজিস্ট্রার অফিসের তুলনায় এখানে দলিলের সংখ্যা কম হলেও দেশের সর্বোচ্চ  রেটের এই ২৫/ ৩০টা দলিলেই হয় কোটি কোটি টাকার খেলা।
জমির সব কাগজ ঠিকঠাক থাকলেও গুলশান সাব - রেজিস্ট্রারকে,  নকল নবীশ গিয়াস উদ্দিনের মাধ্যমে দিতে হয় ৫০ হাজার থেকে শুরু করে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ।

তবে সব থেকে বেশি টাকা গুনতে হয় সাফ কবলা, দানপত্র ঘোষণাপত্র, ভুল সংশোধন, বণ্টননামা, অসিয়তনামা ও আমমোক্তারনামায়। এখানে ঘুষের হার প্রতিটিতে সর্বনিম্ন ১ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত গুনতে হয় সাধারণ জনগণকে। সাধারণত সম্পত্তির ভোগদখল, রক্ষণাবেক্ষণ, কেনাবেচার জন্য কাউকে ক্ষমতা অর্পণের জন্য আমমোক্তারনামা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) করা হয়। ব্যাংক থেকে রেজিস্ট্রি অফিসে এ দলিল এলে ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকার নিচে সেগুলো রেজিস্ট্রি করা হয় না বলেও জানা গেছে। এছাড়া গুলশানের মতো খানদানি এলাকাতেও জমির শ্রেণী পরবর্তন করে সাব- রেজিস্ট্রার নিজে লাভবান হলেও সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।

সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, প্রতি মাসে এখানে ঘুষ উত্তোলন হয় ৫  কোটি থেকে ৭ কোটি টাকা। সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের অফিস সহকারী থেকে শুরু করে প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এ টাকার ভাগ পান। ঘুষের টাকার ৬০ শতাংশ সাব-রেজিস্ট্রার নিজে রেখে বাকি টাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী, ও জেলা রেজিস্ট্রার  অফিসের নামে ভাগ বাটোয়ারা হয়। প্রতিদিন সন্ধ্যার মধ্যে ঘুষের টাকার ভাগ সবাই পেয়ে যান। দলিল লেখকরা জানান, সরকার নির্ধারিত ফি- দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করার কথা বললে সংশ্লিষ্টরা নানান অজুহাত দেখান। আর শুধু জমি রেজিস্ট্রি নয়, দানপত্র, বণ্টনপত্র, ঘোষণাপত্র, অংশনামা ও চুক্তিপত্রের মতো দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ফি-র চেয়ে ৫০ থেকে ৬০ গুণ টাকা দিতে হচ্ছে দাতাগ্রহীতাদের। দলিলের নকল (অনুলিপি) সংগ্রহ করতেও সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।

এদিকে গুলশান সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে শুধু সাব রেজিস্ট্রার নন, অফিস সহকারী, পিয়ন, মোহরার ও নকল নবিশরাও কোটি কোটি টাকার মালিক।

গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি  অফিসে অনিয়মই এখন নিয়মে পরিনত হয়েছে। এ গুরুতর অপরাধের সহায়তা করছে উক্ত অফিসের নামে মাত্র নকল নবীশ  মাদক সম্রাট ও ঘৃনীত মধুচক্রের  দালাল মো: গিয়াস উদ্দিন। সাব রেজিস্ট্রার মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন ও নকল নবীশ গিয়াস উদ্দিন এর যৌথ কর্মকান্ডে গুলশান সাব- রেজিস্ট্রার অফিস এখন দূর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে। মামুন-গিয়াস চক্রের দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকায়  করেছেন বাড়ি,  গাড়ি,  ফ্ল্যাট,  প্লট ও ব্যাংক ব্যালেন্স। 
এসব দুর্নীতি আর অনিয়ম  তদন্তে আবু হানিফ নামে তেজগাঁও সাব- রেজিস্ট্রারী কমপ্লেক্স অফিস সংশ্লিষ্ট জনৈক ব্যাক্তি মো: গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিহীত ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য আইন উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং জননিরাপত্তা ও আইজিআর বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। গত ১২ মে ২০২৫ তারিখে দাখিলকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গুলশান সাব- রেজিস্ট্রারী অফিসে প্রতিদিন প্রচুর সংখ্যক ভূয়া, জাল এবং জমির শ্রেনী পরিবর্তন করে দলিল সম্পাদন হচ্ছে। বর্তমান সাব- রেজিস্ট্রার মো: আব্দুল্লাহ আল মামুনকে এ নিয়ম বহির্ভূত কাজে সহায়তা করছে চক্র নেতা মো: গিয়াস উদ্দিন। অভিযোগ সূত্রে আরো জানা গেছে গিয়াস উদ্দিন ঐ অফিসের নামে মাত্র নকল নবীশ। একজন নকল নবীশ হয়েও অফিসে বসার জন্য তার নেই কোনো নির্দিষ্ট চেয়ার টেবিল। তাহলে সে কেমন নকল নবীশ? সে বেলা ২ টার পরে অফিসে আসে তার নিজস্ব ব্যাবস্থানায় সংগৃহীত দলিল গুলো সম্পাদন করতে। অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে বেআইনি কাজ সমাধা করে সাব রেজিস্ট্রার মো: আব্দুল্লাহ আল মামুনের সাথে ভাগ বাটোয়ারা করে নেয় সে।
এ সব দুর্নীতি আর অনিয়ম সম্পর্কে জানতে বার্তাবিচিত্রার প্রতিনিধি, সাব-আব্দুল্লাহ আল-মামুন এর মুখোমুখি হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ ভুয়া বানোটা ও মিথ্যা বলে দাবি করেন। নকল নবীশ গিয়াস উদ্দিনকে অফিসে না পেয়ে তার মুঠো ফোনে তার বিরুদ্ধে প্রাপ্ত সকল তথ্য ও প্রমানদির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা সব অস্বীকার করেন, গিয়াস উদ্দিন, আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকা অবস্থায় রমনা থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে, বার্তা বিচিত্রার এই প্রতিবেককে বলেন যে, আনিত এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা  এবং সাংবাদিককে প্রমান সহ তার সাথে মোকাবেলা করার চ্যালেঞ্জ দিয় ফোন এর লাইন কেটে দেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ